আমার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এতটা ভিখিরি ছিলাম, আগে কখনও টেরই তো পাইনি!
কেই-বা টের পায় আগেই?
সব শেষ হলে কেমন যে লাগে, জানো কেউ?
যে জানো, আমার বাসায় আসবে একদিন?
চা খেতে খেতে কিছুটা জানানো যাবে আমায়?
হয়তো ভাবছ, আমি কেমন প্রশ্ন করব!
এই যেমন, সব ফুরিয়ে গেলেও আরও দুটো দিন কী করে বেশি বেঁচে নেওয়া যায়?
এমন অবস্থাতেও কি শাড়ি পরে পায়ে আলতা দেওয়া যায়?
নীলকাজল-চোখে চোখ রাঙালে কি লোকে হাসাহাসি করে?
একটু উর্দু কবিতা পড়া যায় নাকি বিকেলে?
কিংবা নিদেনপক্ষে আধটু এলিয়ট?
আচ্ছা, সব ফুরিয়ে গেলে কি নিজের-হাতে-করা আঁকাবাঁকা কাঁথা-স্টিচের জামাটা গায়ে জড়ানো যায় না?
বিয়েবাড়ির দাওয়াতে যাওয়া কি বন্ধ করে দিতে হয়?
রাত করে ঘরে ফিরলে,
একটু বেশি করে ভাত খেলে কি বাড়ির কাকিমা’রা লজ্জা দেয়?
এই কটা মাত্র প্রশ্ন করব। তুমি চাইলে তার পরে আরও করব। আর না চাইলে দু-জন মিলে আকাশ দেখব।
একটু সময় নিয়ে এসো।
জানি, আজকাল মানুষের শুধু সময়েরই খুব অভাব।
তবুও বলছি, যদি পারো, সব-শেষ-হয়ে-যাওয়া মানুষটার জন্য হাতে করে একটু সময় নিয়ে এসো!
